BD Arena

প্রাচীন মিশর : মিসরীয় দেবতা ওসিরিস এবং দেবী আইসিস

Go down

প্রাচীন মিশর : মিসরীয় দেবতা ওসিরিস এবং দেবী আইসিস

Post by Tonmoy on Mon Dec 19, 2011 10:09 pm


প্রাচীন মিশর : মিসরীয় দেবতা ওসিরিস এবং দেবী আইসিস


[You must be registered and logged in to see this image.]


আজ থেকে হাজার বছর আগে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আকাশ, তারা ও চন্দ্রের দেবী নাট। নাট ছিলেন সু ও ট্যাপলেটের সুযোগ্য কন্যা। পৃথিবীর অধিপতি গ্যাবের পত্নী। নাট গ্যাবের পত্নী হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের কোনো সন্তানাদি ছিল না। এমতাবস্থায় রিও নামক এক দেবতুল্য জ্যোতিষী মৃত্যুপূর্বকালীন সময়ে নাটকে কাছে ডেকে বলেছিলেন_ নাট তোমার যদি কোনো সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তাহলে তাদের মধ্য থেকে যেকোনো একজন তোমার শাসন, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পৃথিবী থেকে চিরতরে বিলীন করে দিবে। সুতরাং তুমি কোনো সন্তানাদির প্রত্যাশ্যা করো না, কেননা তোমার জীবন অভিশপ্ত।

দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে নাট সাহায্যের জন্য গেলেন দ্রোহের কাছে। যিনি ছিলেন একাধারে বিজ্ঞ ব্যক্তি, দার্শনিক, ম্যাজিসিয়ান অব্যবহৃত দেবতা। তিনি জানতেন কেন বা কী কারণে রিও-নাটকে অভিশাপ দিয়েছেন। যাই হোক, দ্রোহ গেলেন কোনসুর কাছে, কোনসু ছিলেন চাঁদ ও খড়ার দেবতা। যিনি নিজে নিজে অনেক অসম্ভব ঘটনাকে সম্ভব করেছিলেন। দ্রোহের অনুরোধে নাটকে সান্ত্বনা দিলেন কোনসু। সান্ত্বনা দিয়ে বললেন যাও তোমার কোনো ভয় নেই, যে কোনো বিপদে আমি তোমার পাশে থাকব।

অভয়বাণীর পর নাটের উদর থেকে প্রথম সন্তান হিসেবে জন্ম নিল ওসিরিস, দ্বিতীয় সন্তান ডার্ক সিথ, তৃতীয় কন্যা সন্তান আইসিস, চতুর্থ সন্তান হিসেবে জন্ম নিল নেপসিস। এভাবে নাটের কয়েকটি সন্তান হওয়ায় রিওয়ের ভবিষ্যদ্বাণী সাময়িক ব্যর্থ হলো।

ওসিরিস প্রাপ্ত বয়সে তার বোন আইসিসকে মিসরের ফারাহ বংশের ঐতিহাসিক নিয়ম অনুযায়ী বিবাহ করেন। আর সিথ বিয়ে করেন নেপথিসকে। ওসিরিস-রিও বিগত হওয়ার পর মিসরের ক্ষমতায় আরোহণ করেন। সিথকে দেওয়া হয় অন্য প্রদেশের দায়িত্ব। আইসিস ও ওসিরিসের সময়ে মিসরের জনগণ সভ্যতা কি তা ভালোমতো বুঝত না। নিজেরা হানাহানি করে নিজেদের সম্পদ ও জীবন শেষ করে দিত। হত্যা, লুণ্ঠন, খুন ছিল সাধারণ জনগণের কাছে মামুলি ব্যাপার।

দুর্ভিক্ষ, বন্যা, খড়া, ছিল মিসরবাসীর নিত্যসঙ্গী। জনগণের কল্যাণের জন্য আইসিস নতুন ধরনের ফসল চাষের উদ্ভাবন করেন_ যা নীল নদের উপকূলে চাষ করার উপযুক্ত ছিল। ওসিরিসের সহায়তায় আর আইসিসের মেধায় জনগণ নতুন পদ্ধতির ফসল উৎপাদন করল দূর হয়ে গেল মিসরবাসীর সব দুঃখ, দুর্দশা।

এভাবে ক্রমেই মিসরীয়রা রুটি, সুস্বাদু খাদ্য তৈরি করতে শিখল। ওসিরিস ও আইসিস জনগণের জন্য তৈরি করলেন আইন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক মৈত্রীর জন্য গির্জা ও মন্দির। অসভ্য জাতি থেকে মিসরীয়রা সভ্য জাতিতে পরিণত হলো, আইসিস ও ওসিরিস সবার মধ্যমণি হিসেবে স্বীকৃত পেল।

ওসিরিস ও আইসিসের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, আবিষ্কার আর জনগণের ভালোবাসা সিথের হৃদয়ে কাঁটার মতো বিঁধতে লাগল। সবার কাছে প্রিয় আইসিস ও ওসিরিসকে হত্যা করতে চাইল সিথ। ওসিরিসের ভাই শয়তানের দেবতা সিথের চক্রান্ত টের পেয়ে আইসিস সব সময় সতর্ক থাকতে বলল ওসিরিসকে।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সিথ তার প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানালেন ওসিরিসকে। ভাইয়ের অনুরোধে একজন সঙ্গীসহ ওসিরিস সিথের প্রাসাদে এলো। সিথ ওসিরিসের সম্মানে নৈশভোজ ও নৃত্য পরিবেশনের আয়োজন করেন। আবলুস কাঠ ও স্বণখচিত হাতির দাঁতবেষ্টিত একটি সিন্দুক উপহার দেন সিথ ওসিরিসকে। এতকিছু পেয়ে অবাক হয়ে যান দেবতা ওসিরিস। আবেগ আর ভালোবাসায় সিথকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন ওসিরিস। প্রথম পরিকল্পনায় সিথ হত্যা করতে পারে না ওসিরিসকে। যাই হোক, নীল নদের উপকূলে যখন ওসিরিস সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করবেন, তখনই শয়তান সিথ ওসিরিস ও তার সঙ্গীকে সিন্দুকের মধ্য পুরে নীল নদে ভাসিয়ে দেয়। নীল নদের পানিতে ভাসতে ভাসতে দেবতা ওসিরিস পিউনিসিয়ার ব্যাবলস শহরের সমুদ্র বন্দরে এসে পৌছে। খবরটি রাজা ম্যান কিলারভার ও রানীর কাছে দ্রুত পৌছে যায়। তারা দেবতা ওসিরিসের লাশ ও সিন্দুক অতি যত্নের সঙ্গে সংগ্রহ করে।

এদিকে আইসিসের কর্ণকুহরে খবরটি পেঁৗছে যায়। স্বামীর শোকে শোকাহত আইসিস পিউনিসিয়ায় পেঁৗছে ওসিরিসের মৃতদেহ গ্রহণ করে। প্রতিশোধের নেশায় জ্বলতে থাকে আইসিস ও তার ছেলে হোরুজ। মনোদ্বন্দ্বের কারণে নেপথিস স্বামী সিথকে পরিহার করে যোগ দেয় আইসিসের দলে।

আইসিস ছিল অসম্ভব সুন্দরী, ম্যাজিসিয়ান ও ঐশ্বরিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত। তিনি ওসিরিসের দাফন না করিয়ে মৃতদেহকে গভীর রাতে নীল নদের উপকণ্ঠে এনে গভীর ধ্যানে মগ্ন হন। হঠাৎ আকাশ থেকে আলোকোজ্জ্বল্য আভা এসে মৃতদেহের ওপরে ঠিকরে পড়লে মুহূর্তেই জীবিত হয়ে যায় ওসিরিস।

মৃত পিতাকে জীবিত পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় হোরুজ। আবেগে আপ্লুত হয় আইসিস।

দেবতা ওসিরিস ছেলে হোরুজকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে শয়তান সিথের বিরুদ্ধে। যুদ্ধে হাজার হাজার সৈন্য নিহত হয় উভয়পক্ষের। প্রাণ হারায় সিথ। সব পরিকল্পনা ধূলিসাৎ হয়ে যায় সিথের। ওসিরিস হয়ে ওঠে মিসরীয় দেবতা আর আইসিস দেবী। হোরুজ হয় মিসরীয় রাজা। এভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর।
মিসরের সর্বশেষ সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রা নিজেকে আইসিসের মানবী সংস্করণ এবং মার্ক অ্যান্টনিকে ওরিসিসের মানব সংস্করণ বলে দাবি করতেন।
সিথ জানতেন আইসিসের মৃত দেহে আত্মা ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা আছে (Goddess of Dead soul) তাই তিনি ওসিরিসের দেহ টুকরা টুকরা করে সারা মিশরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, আশা ছিল এর পরে আর আইসিস কিছু করতে পারবেন না, কারন দেহ ছাড়া আত্মা ফিরিয়ে আনা সম্ভব না। আইসিস সারা মিশরে ঘুরে ওসিরিসের দেহ সংগ্রহ করেন, এরপর নীল নদের তীরে বসে আরো বড় দেবতাদের কাছে প্রার্থনা করেন যেন ওসিরিসের দেহের অংশগুলোকে এক করে দিতে। প্রচলিত মিথ হল, আইসিস নীল নদের তীরে বসে এত বেশী কেদেছিলেন যে সেজন্যেই প্রতি বছর নীল নদে বন্যায় পানি উপচে পড়ে। আইসিসের মিশরীয় প্রচলিত নাম ছিল আয়শা।

আইসিসের মিথ শুধু মিশরে নয়, ছড়িয়ে পড়ে সুদুর গ্রীস - রোমান সভ্যতা পর্যন্ত। গ্রীক মিথে আইসিসকে অবশ্য অন্য রুপে বর্ননা করা হয়েছে। বলা হয়, আইসিস ছিলেন রুপের দেবী, তার রুপ এতটাই তীব্র ছিল যে, ওনেক দেবতাও এই রুপের আগুন সহ্য করতে পারতেন না। আইসিস খুজে পান পৃথিবীর একমাত্র চিরযৌবনের ঝর্না (The fountain of eternal youth) এবং সাধনার মাধ্যমে চিরযৌবন লাভ করেন। আইসিসের রুপের অহংকার ছিল, আর ছিলেন প্রচন্ড দাম্ভিক, তাই গ্রীক দেবতারা তাকে দেখতে পারতেন না। আইসিস খুবি মেধাবী ছিলেন, নিজের চেস্টায় তিনি সব ধরনের বিজ্ঞান ও জাদুবিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। গ্রিক মিথে তাকে বলা হত "সী" (She).

আইসিসের রুপ নিয়ে অনেক মজার মজার মিথ প্রচলিত আছে। কিছু গ্রীক দেব দেবী মিলে আইসিসের রুপকে অনুজ্জ্বল (not so bright) বলে উপহাস করলে আইসিস র্সূ্য্যের কাছে গিয়ে র্সূ্য্যের উজ্জলতা নিজের মাঝে টেনে নিতে থাকেন। ফলে সুর্য পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায়, সুর্যের দেবতা এপোলো দেবতাদের দেবতা জিউসের কাছে আইসিসকে থামানোর জন্যে প্রার্থনা করলে জিউস আইসিস কে থামতে অনুরোধ করেন, কারন আইসিসের মা নাট ছিলেন আকাশের সীমার বাইরের অধিকারী (Goddess of overarching sky), তাই জিউস ও পারেননি আইসিসকে জোর করতে।

Tonmoy
Junior Member
Junior Member

Posts : 117
Join date : 2011-11-26

Back to top Go down

Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum